শুক্রবার,

০৪ এপ্রিল ২০২৫,

২১ চৈত্র ১৪৩১

শুক্রবার,

০৪ এপ্রিল ২০২৫,

২১ চৈত্র ১৪৩১

Radio Today News

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি, চিকিৎসক যা বলছেন

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ৩ এপ্রিল ২০২৫

Google News
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি, চিকিৎসক যা বলছেন

লবণ আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষা করতে, পেশির কার্যকারিতা ঠিক রাখতে এবং স্নায়ু সংকেত পরিচালনায় সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই লবণের সঠিক মাত্রা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে লবণ খাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। 

আমাদের কতটা লবণ খাওয়া উচিত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক লবণের পরিমাণ ৫ গ্রামের নিচে রাখতে হবে, যা সোডিয়াম হিসেবে ২,০০০ মিলিগ্রাম। ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইন্টারনাল মেডিসিন) ডা. রাকেশ গুপ্তা প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও এই পরিমাণের নিম্ন সীমাকে সমর্থন করে। এই নির্দেশিকা মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব, যা অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব: যখন আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রার লবণ খান, তখন শরীরে কিছু তাৎক্ষণিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ডা. জয়ন্ত থাকুরিয়া, ইয়াথার্থ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডিরেক্টর (ইন্টারনাল মেডিসিন ও রিউমাটোলজি), এ বিষয়ে বলেন:

তীব্র তৃষ্ণা: অতিরিক্ত লবণ শরীরের তরল ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যার ফলে পানিশূন্যতা হয় এবং তীব্র তৃষ্ণা অনুভূত হয়।
শরীরে পানি জমা: কিডনি সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করে, ফলে শরীরে পানি জমে ফোলাভাব ও পফিনেস দেখা দেয়।
রক্তচাপের অস্থায়ী বৃদ্ধি: অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তে জল টেনে আনে, যার ফলে রক্তের পরিমাণ বেড়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।

দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি: দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। ডা. থাকুরিয়া ও ডা. গুপ্তা দুজনেই এ বিষয়ে একমত:

উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত লবণ গ্রহণে ক্রনিক উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। ডা. গুপ্তা বলেন, এটি হৃদযন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিডনির ক্ষতি: লবণ কিডনির কাজের চাপ বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগের কারণ হতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্য: অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম বের করে দেয়, যা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

লবণ আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও, এর সঠিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গ্রহণ শুধু তাৎক্ষণিক অস্বস্তিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আপনার খাদ্যাভ্যাসে সোডিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখুন, যাতে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব হয়। 

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের