
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর স্টাফ গারজেলি গুলিয়াস ফেসবুকে এক পোস্টে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। নেতানিয়াহু হাঙ্গেরি সফরে যাওয়ার পর দেশটি এমন পদক্ষেপ নিল। খবর আল জাজিরার।
পোস্টে তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত থেকে প্রস্থান করেছে হাঙ্গেরি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুযায়ী বৃহস্পতিবার প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর কারণ হিসেবে আদালত রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বরে গাজায় হামলার সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তবে গত নভেম্বরে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার একদিন পর হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী অরবান নেতানিয়াহুকে তার দেশে আমন্ত্রণ জানান।
তবে সম্প্রতি হাঙ্গেরি সফরের সিদ্ধান্তের পর নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেয় হাঙ্গেরি। দেশটির এমন সিদ্ধান্তে প্রশংসা জ্ঞাপন করেছে ইসরায়েল।
ধারণা করা হচ্ছিল আইসিসি থেকে বাতিল করা হবে হাঙ্গেরির পদ। তবে তার আগেই নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা আসলো হাঙ্গেরির পক্ষ থেকে।
এ ছাড়া বরাবরই ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটি জানিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইহুদি-বিদ্বেষের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আইসিসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইসিসি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগকারী একটি দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে সমস্ত বৈধতা হারিয়েছে বলেও জানায় তেল আবিব।