
গাজায় ইসরাইলের সম্পূর্ণ অবরোধের কয়েক সপ্তাহ পর উপত্যকাটির প্রধান রুটি তৈরির সমস্ত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে গাজাবসীর মধ্যে তীব্র রুটি সংকট দেখা দিয়েছে।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এমনই হৃদয়বিদারক তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার বেকারি মালিক সমিতির চেয়ারম্যান আবেদ নাসের আল-আজরামি জানান, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ছিল গাজার বেকারিগুলোর একমাত্র পৃষ্ঠপোষক। যারা তাদের সব প্রয়োজনীয় সরবরাহ দিত।
জাতিসংঘের খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচির একটি বড় অংশ ছিল এই বেকারিগুলো, যেগুলো গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে রুটি বিতরণ করত।
‘বেকারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। কারণ সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই’।
জানুয়ারিতে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে ইসরাইল আকস্মিকভাবে ১৮ মার্চ থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে। তারও আগে অর্থাৎ গত ২ মার্চ থেকে উপত্যকাটিকে সম্পূর্ণ অবরোধ চাপিয়ে দেয়। এর ফলে গাজায় সব রকমের সরবরাহ ফের বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে অনেকটা মানবেতর জীবন-যাপন চলে ফিলিস্তিনিদের। খেয়ে না খেয়ে রোজা ও ঈদ পালন করে গাজাবাসী।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর থেকে চালানো ইসরাইলের লাগাতার বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশুও রয়েছে।
যা নিয়ে গত ১৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বর্বরতায় ১০৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ২৫০০ জনের বেশি।
দখলদার ইসরাইল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি প্রধান পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্টের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যার ফলে গাজায় বিশুদ্ধ পানিও এখন দুর্লভ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘এই নির্মম যুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র হিসেবে না খাইয়ে মারার কৌশল ব্যবহার করার’ অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি গাজাকে দুর্ভিক্ষ ও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।