
দুবাইভিত্তিক বাইবিট ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়া দায়ী বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিএই)। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ দাবি করে সংস্থাটি। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এই চুরিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো হ্যাক বলে মনে করা হচ্ছে।
এফবিআই হ্যাকিংয়ের জন্য উত্তর কোরিয়ার নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী না করে বলেছে, হ্যাকাররা 'ট্রেডারট্রেইটর' নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করেছে, যা ভুক্তভোগীদের চাকরির অফারের আড়ালে 'ম্যালওয়্যার' ইনস্টল করতে প্ররোচিত করে। একবার ইনস্টল হয়ে গেলে ম্যালওয়্যারটি হ্যাকারদের আর্থিক সিস্টেমগুলোতে অ্যাক্সেস পেতে এবং তহবিল সরিয়ে নিতে অনুমতি দেয়।
সংস্থাটি দাবি করেছে, হ্যাকাররা দ্রুত চুরি হওয়া সম্পদের অংশগুলো বিটকয়েন এবং অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করতে শুরু করে। একাধিক ব্লকচেইনের হাজার হাজার ঠিকানায় সেগুলো ছড়িয়ে দেয়।
এফবিআই'র বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার অভিযুক্ত অপরাধীরা পরে তহবিল পাচার করবে এবং শনাক্তকরণ এড়াতে 'ফিয়াট মুদ্রায়' রূপান্তর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছয় কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদানকারী 'ভার্চুয়াল এক্সচেঞ্জ' প্ল্যাটফর্ম বাইবিট জানিয়েছে, ডিজিটাল ওয়ালেটের মধ্যে নিয়মিত লেনদেনের সময় এই ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকাররা অফলাইন স্টোরেজ সিস্টেম থেকে ট্রেডিংয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি 'হট ওয়ালেটে' তহবিল স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াটি কাজে লাগিয়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ইথেরিয়াম টোকেন (১.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের) চুরি করে। তাদের একটি অজানা ঠিকানায় পাঠায় এগুলো।
চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য সাইবার সিকিউরিটি এবং ব্লকচেইন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। যে কোনো পরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য ১০ শতাংশ পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে 'অস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা' এড়াতে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। উত্তর কোরিয়ার অন্যতম কথিত হ্যাকিং ইউনিট 'ল্যাজারাস গ্রুপ' ২০২২ সালে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের রোনিন নেটওয়ার্ক হ্যাকসহ পূর্ববর্তী ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
যদিও উত্তর কোরিয়া এফবিআইয়ের অভিযোগের বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেনি, তবে এটি এর আগে ক্রিপ্টো চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, পরামর্শ দিয়েছে যে তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে রয়েছে।