সোমবার,

৩১ মার্চ ২০২৫,

১৬ চৈত্র ১৪৩১

সোমবার,

৩১ মার্চ ২০২৫,

১৬ চৈত্র ১৪৩১

Radio Today News

রাজস্ব ক্ষতি ও চোরাচালানের প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তামাক কোম্পানি

রেডিও টুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:১৫, ২৫ মার্চ ২০২৫

Google News
রাজস্ব ক্ষতি ও চোরাচালানের প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তামাক কোম্পানি

আসন্ন অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিভ্রান্ত করতে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো অতীতের মতো কর বৃদ্ধি করলেসরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে’, ‘চোরাচালান বাড়বেঅবৈধ সিগারেট বৃদ্ধি পাবেবলে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। বাস্তবে এসব প্রপাগান্ডার কোনো সত্যতা না থাকলেও তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন থেকে বাজেটের আগে এভাবেই অপতথ্য প্রচার করে। একইসঙ্গে তামাক কোম্পানিগুলো যাতে এমআরপি লঙ্ঘন অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা শলাকায় সিগারেট বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দিতে না পারে সেজন্য এনবিআরকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি তামাক কোম্পানিগুলো কৃত্রিমভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে সিগারেট বিক্রির সংকট রাজস্ব কমে যাওয়ার ফাঁদ তৈরি করতে পারে। এজন্য এনবিআরকে সতর্ক থাকতে হবে।

সোমবার (২৪ মার্চ ২০২৫) ‘কর বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে তামাক কোম্পানির অপপ্রচার বাস্তবতাশীর্ষক এক ওয়েবিনারের তামাক কর বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর ট্যোবাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে অনলাইন মিটিং প্লাটফর্ম জুমে ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি বিএনটিটিপি টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক। বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য জনাব আলী আহাম্মেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক সমন্বয়কারী স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং একাত্তর টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা। ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিএনটিটিপি প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং সঞ্চালনা করেন বিএনটিটিপি প্রজেক্ট অফিসার ইব্রাহীম খলিল।

ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানি প্রচার করে তামাকজাত দ্রব্যের কর বৃদ্ধি করলে চোরাচালান বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছেবাজেট ঘোষণার কয়েকমাস আগে গণমাধ্যমে অবৈধ সিগারেট উদ্ধারের খবর আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিশ্বে যেসব দেশে সিগারেটের দাম সবচেয় কম তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও সিগারেটের দাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। তাই বেশি দামের দেশ থেকে কম দামের দেশে সিগারেট চেরাচালান হয়ে আসবে এই যুক্তি টেকে না। বিইআর বিএনটিটিপির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের প্রায় সব খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে বড় তামাক কোম্পানিগুলোর নিয়মিত সংযোগ রয়েছে। ফলে সব বিক্রিয়কেন্দ্রে তাদের নজরদারি পর্যবেক্ষণে থাকায় নকল সিগারেট বিক্রির প্রপাগান্ডা গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বলেন, চেরাচালান তত্ত্বে সুবিধা করতে না পেরে তামাক কোম্পানিদেশে অবৈধ সিগারেটের উৎপাদন বৃদ্ধি তত্ত্ব হাজির করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাজেটের আগে দেশের আনাচে কানাচে-গ্রামে-মাঠে পরিত্যাক্ত ভবনে নকল সিগারেট কারখানা আবিষ্কারের সংবাদ বেশ ফলাওভাবে উঠে আসে। আইনশৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ভাঙ্গাচোরা পুরানো মেশিন, তামাক পাতার গুড়া কিছু সিগারেট দেখানো হয় তথাকথিত নকল সিগারেট কারখানাগুলোয়। যেখানে একজন দারোয়ান ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর কাউকেও আটক করতে দেখা যায়নি। এসব ঘটনা তামাক কোম্পানিই এনবিআরকে প্রভাবিত করতে ঘটিয়ে থাকে বলে বলে সবার বিশ্বাস।

ওয়েবিনারে বক্তারা আরও বলেন, কর বৃদ্ধি করলে রাজস্ব কমে যাবে বলেও প্রতি বছর তামাক কোম্পানিগুলো প্রপাগান্ডা চালায়। কিন্তু তাদের এই অপপ্রচারেরও কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এনবিআরের তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে তামাকজাত দ্রব্য থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮৮৮ কোটি টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩২,৮২৩ কোটি টাকা! এর মধ্যে কোনো অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ের হার কমেনি। বরং গত ১৮ বছরে তামাকজাত দ্রব্যে থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ গুণ।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের অর্ধশত প্রতিনিধিবৃন্দ ওয়েবিনার অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের