
বুধবারের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণী প্রেমা শুক্রবার দুপরে চমেক হাসপাতালে মারা যায়। ডানে ঢাকায় নিয়ে আসা শিশু আরাধ্য
চট্টগ্রাম ব্যুরো: জেলার লোহাগাড়া উপজেলায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে আহত আরও একজন তরুণী মারা গেছেন। মারা যাওয়া এ তরুণীর নাম তাসনীম ইসলাম প্রেমা (১৮)। এ নিয়ে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ জনে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রেমার মৃত্যু হয়।
ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তারা বাবা রফিকুল ইসলাম, মা লুৎফুন নাহার, বোন লিয়ানা নিহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার আরেক বোন আনিশাও মারা যান।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় আহত শিশু আরাধ্য বিশ্বাসের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আরাধ্যার বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা মণ্ডল নিহত হন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার তসলিম উদ্দিন সারাবাংলাকে জানান, প্রেমার মাথায় ও বুকে ইনজুরি ছিল। প্রথমে তাকে নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হলেও পরে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানাস্তর করা হয়। শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত আরেক শিশু আরাধ্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে – (ছবি: সংগৃহীত)
উল্লেখ্য, বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান সাতজন। পরে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে দুজন ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন আরাধ্য, কিশোর দুর্জয় মণ্ডল ও কিশোরী তাসনীম ইসলাম প্রেমা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম