
এপ্রিলের শুরুতেই দেশের চারটি অঞ্চলে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, অথচ পঞ্চগড়ে এখনও শীতের আমেজ রয়ে গেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর, রাজশাহী বিভাগ, সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গাতে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার তাপপ্রবাহ চলছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে।
অন্যদিকে, দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এখনও শীতের অনুভূতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে ভোরের দিকে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে এবং তাপমাত্রা ১৫-১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, আবহাওয়ার এই বৈপরীত্য বেশ অদ্ভুত, কারণ সাধারণত এ সময়ে পুরো দেশেই গরম অনুভূত হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশায় ঢেকে যায় প্রকৃতি। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ার দর্জিপাড়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল পরিবেশ। এমনকি আকাশেও দেখা গেছে মেঘের আনাগোনা।
স্থানীয়রা বলছেন, শীতকাল শেষ হয়ে গেলেও এখানকার আবহাওয়া এখনও বেশ ঠান্ডা। দিনের বেলায় রোদে গরম লাগলেও রাতের বেলা শীতের অনুভূতি স্পষ্ট। কেউ কেউ এখনো গভীর রাতে লেপ-কম্বল গায়ে দিচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ জানান, সকালে মেঘলা আকাশ ও কুয়াশার কারণে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে, যা শীতের আমেজ ফিরিয়ে এনেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই ব্যতিক্রমী আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।
একদিকে পঞ্চগড়ে শীতের আমেজ থাকলেও দেশের অন্যান্য কিছু অঞ্চলে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর, রাজশাহী বিভাগ, সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুর, যা পঞ্চগড়ের পাশের জেলা, সেখানে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশ তীব্রভাবে। অন্যদিকে রাজশাহী, সৈয়দপুর ও চুয়াডাঙ্গায়ও তাপমাত্রা বেড়ে গরমের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
দেশের এক প্রান্তে শীতের অনুভূতি আর অন্য প্রান্তে তাপপ্রবাহ এই বৈপরীত্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শীত-গরমের এই মিশ্র আবহাওয়া চলতি সময়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার আরও পরিবর্তন হতে পারে। ফলে শীতের এই পরশ কতদিন থাকবে বা তাপপ্রবাহ কতটা ছড়িয়ে পড়বে, সেটি সময়ই বলে দেবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম